![]()
পাবনার মনোরম বিকেল : ইতিহাস, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যের মিলনমেলা
বাংলাদেশের অন্যতম জেলা পাবনা, যার পরিচিতি শুধু ভৌগোলিক দিক থেকেই নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিক উন্নয়নের মেলবন্ধনের জন্যও বিশেষভাবে সমাদৃত। সম্প্রতি এক বিকেলে পাবনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ হলো— পাকশি হাঞ্জিং ব্রিজ, লালন শাহ সেতু এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রতিটি স্থাপনা যেন একেকটি গল্প, একেকটি গৌরবের প্রতীক।
🌉 পাকশি হাঞ্জিং ব্রিজ : ঐতিহ্যের সাক্ষী
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, যা অনেকেই পাকশি ব্রিজ নামে চেনেন। এটি পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি ঐতিহাসিক রেলসেতু। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই সেতুটি আজও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে যখন সূর্যাস্ত দেখা যায়, তখন পদ্মার জলে আভা খেলে যায়— যেন ইতিহাস আর প্রকৃতি একসাথে মিশে যায়।
🌉 লালন শাহ সেতু : আধুনিক উন্নয়নের প্রতীক
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশেই পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে লালন শাহ সেতু। আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত এই সেতুটি সড়ক যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এক বিকেলের নরম আলোয় যখন সেতুর গায়ে সূর্যের শেষ রঙ খেলে যায়, তখন দৃশ্যটি হয় সত্যিই অপূর্ব। নদীর দুই পাড়ের সৌন্দর্য এই সেতুকে ঘিরেই যেন নতুন মাত্রা পায়।
⚡ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র : আগামীর শক্তি
পাবনার আরেকটি গর্বের নাম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা শুধু একটি প্রকল্প নয়— বরং আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন ও উন্নয়নের প্রতীক। দূর থেকে এই বিশাল স্থাপনা দেখে বোঝা যায়, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের শক্তি কীভাবে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে পারে। বিকেলের হাওয়ায় দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশালতা দেখলে এক ধরনের গর্ব কাজ করে— এই উন্নয়ন আমাদেরই।
🌿 বিকেলের অনুভূতি
পাবনার প্রকৃতি, ইতিহাস আর উন্নয়নের নিদর্শনগুলো এক বিকেলে দেখা যেন অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। পদ্মার বুকে সেতুর সৌন্দর্য, নদীর ঢেউ, আর আধুনিকতার প্রতীক বিদ্যুৎ কেন্দ্র— সব মিলিয়ে পাবনাকে নতুন করে আবিষ্কার করা যায়।
✈ ভ্রমণ টিপস
ভ্রমণের জন্য বিকেলের সময় বেছে নিলে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
পদ্মার পাড়ে বসে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘুরতে গেলে নিরাপত্তাজনিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
🚗 কীভাবে পৌঁছাবেন
ঢাকা থেকে পাবনা : বাসে সরাসরি পাবনা যেতে সময় লাগে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা।
ঈশ্বরদী/পাকশি : পাবনা শহর থেকে বাস বা অটোরিকশায় সহজেই পাকশি ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুতে যাওয়া যায়।
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র : ঈশ্বরদী থেকে স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করে রূপপুরে যাওয়া যায়। তবে অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করা যায় না।
✍ পাবনা শুধু একটি জেলা নয়, এটি ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও আধুনিক বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক।
