মৌখিক দান এর গ্রহণযোগ্যতা ও আইনগত প্রতিকার,বাংলাদেশে মুসলমানদের দান (হিবা) বিষয়টি মূলত ইসলামী শরীয়ত এবং Transfer of Property Act, 1882 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শরীয়তে মৌখিক দান গ্রহণযোগ্য হলেও, আইনগত বৈধতার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করা আবশ্যক।
হিবা বা দান হলো – কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ বা সম্পত্তি স্বেচ্ছায় অন্য কাউকে হস্তান্তর করা, যেখানে বিনিময়ে কোনো মূল্য বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হয় না।
মৌখিক দান বৈধ হওয়ার শর্তসমূহ
ইসলামী আইন ও Transfer of Property Act, 1882 (ধারা 123 ব্যতিক্রম) অনুযায়ী মৌখিক দান কার্যকর হতে হলে তিনটি মূল শর্ত পূরণ করতে হবে—
১. প্রকাশ্য ঘোষণা (Offer):
দাতা (Donor) স্পষ্টভাবে মৌখিকভাবে দান করার ঘোষণা দেবেন।
শরীয়ত ও আদালতের নজিরে কেবল মৌখিক ঘোষণা যথেষ্ট, লিখিত দলিল অপরিহার্য নয়।
২. গ্রহণ (Acceptance):
দান গ্রহণকারী (Donee) তা গ্রহণ করবেন।
গ্রহণ না করলে দান কার্যকর হবে না।
৩. কবজা বা দখল (Delivery of Possession):
দানকৃত সম্পত্তির দখল বা কবজা গ্রহীতার হাতে হস্তান্তর করতে হবে।
দানকারী যদি কবজা না দেন তবে তা বৈধ হবে না।
👉 Privy Council Case: Muhammad Abdul Ghani vs. Fakhr Jahan Begum (1922) – এখানে মৌখিক দান দখল হস্তান্তরের মাধ্যমে বৈধ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।
আইনের ধারা অনুযায়ী বিশ্লেষণ
১. Transfer of Property Act, 1882
ধারা 122: হিবা/দান হলো বিনা মূল্যে স্বেচ্ছায় প্রদত্ত সম্পত্তি হস্তান্তর।
ধারা 123: সাধারণত দান রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বৈধ নয়, তবে মুসলমানদের মৌখিক দান (Oral Gift) রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বৈধ, যদি দখল হস্তান্তর হয়।
২. Registration Act, 1908
ধারা 17: সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
তবে মুসলিম হিবার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই মৌখিক দান বৈধ।
৩. Evidence Act, 1872
মৌখিক দান প্রমাণ করার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য (Oral Evidence) গ্রহণযোগ্য।
মৌখিক দানের আইনগত প্রতিকার
১. স্বীকৃতি (Validation):
মৌখিক দান বৈধ প্রমাণ করতে হলে—
ঘোষণা (Offer),
গ্রহণ (Acceptance),
কবজা (Possession) — এই তিনটি শর্ত আদালতে প্রমাণ করতে হবে।
২. বিতর্ক হলে প্রতিকার:
দানকারী বা উত্তরাধিকারী যদি মৌখিক দান অস্বীকার করেন, তবে গ্রহীতা সিভিল কোর্টে Declaratory Suit দায়ের করতে পারেন।
আদালত সাক্ষী, দখল, দলিলপত্র বা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দানের বৈধতা নির্ধারণ করবে।
৩. মৌখিক দান বাতিলের সুযোগ:
একবার বৈধভাবে কবজা হস্তান্তর হয়ে গেলে মৌখিক দান সাধারণত বাতিলযোগ্য নয়।
তবে দান যদি জবরদস্তি, প্রতারণা বা ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে করা হয় তবে তা বাতিলযোগ্য ।
উপসংহার
মৌখিক দান (Oral Gift) ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য এবং বাংলাদেশে প্রচলিত আইনেও বৈধ, তবে তা কার্যকর হওয়ার জন্য ঘোষণা, গ্রহণ ও কবজা এই তিন শর্ত পূরণ করা অপরিহার্য। যদিও লিখিত দলিল বা রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয় না, তবুও ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়ানোর জন্য লিখিত প্রমাণ রাখা উত্তম।